মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১০ জানুয়ারি ২০১৭

‘গণগ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘর কমপ্লেক্স’ প্রকল্পের নকঁশার জন্য একটি ‘উন্মুক্ত স্থাপত্য প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইনস্টিটিটিউট অব আর্কিটেক্ট্স বাংলাদেশ (আইইবি) এর মধ্যে ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত


প্রকাশন তারিখ : 2017-01-10

বর্তমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ও দূরবর্তী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা অনুযায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘গণগ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘর কমপ্লেক্স’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এ কমপ্লেক্সের জন্য সঠিক নকঁশা প্রনয়ণ ও স্থাপত্য সৌন্দর্য্যরে দিকটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় আইইবি এর মাধ্যমে একটি উন্মুক্ত স্থাপত্য প্রতিযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আজ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইনস্টিটিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইইবি) এর মধ্যে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সংস্কৃতিসচিব আক্‌তারী মমতাজের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা)  মোঃ আমিনুল ইসলাম ও আইইবি এর পক্ষে আইইবি সভাপতি স্থপতি কাজী গোলাম নাসির স্বাক্ষর করেন। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মসিউর রহমান, অতিরিক্ত সচিব সামছুন্নাহার বেগম, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার, স্থপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ, স্থপতি কাজী এম আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান চাহিদা ও দূরবর্তী ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। ‘গণগ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘর কমপ্লেক্স’ এর জন্য আমরা একটি অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নকঁশাকে বেছে নিতে আইইবি এর সহযোগিতায় একটি উন্মুক্ত স্থাপত্য প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছি। যে স্থাপত্যবিদের নকঁশা এ প্রতিযোগিতায় প্রথম হবে উক্ত কমপ্লেক্স সে নকঁশা অনুযায়ী তৈরী করা হবে এবং তা বাস্তবায়িত হলে এটি সবার কাছে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন হবে বলে আমরা মনে করি। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা যেমন এ প্রকল্পের জন্য একটি উপযুক্ত স্থাপত্যশৈলীর নকঁশা পাবো পাশাপাশি যাঁরা স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা এ কাজে আরও উৎসাহ ও প্রেরণা পাবেন।

‘গণগ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘর কমপ্লেক্স’ প্রকল্প অনুযায়ি গণগ্রন্থাগারের জন্য নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর সুবিন্যস্ত বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় জাদুঘরের জন্যও স্থাপত্যশৈলীর সুবিন্যস্ত আর একটি বহুতভবন নির্মাণ করা হবে। এটির অবস্থান হবে জাতীয় জাদুঘরের বর্তমান ভবনের ঠিক পিছনে।

এ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ি আইইবি সমঝোতা স্বাক্ষরের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এ স্থাপত্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করবে। এ প্রতিযোগিতার জন্য তাঁরা একজন উপযুক্ত পরিচালক নিয়োগ করবে যিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট সময়ে এ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করবেন।

এ প্রতিযোগিতার জন্য আইইবি বহুল প্রচারিত একাধিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থপতিদের এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আহ্বান জানাবে। প্রতিযোগীরা এ কমপ্লেক্সের জন্য তাঁদের নকঁশা আইইবি এর কাছে জমা দিবে। সেসব নকঁশা মূল্যায়ণের জন্য দেশের প্রথিতযশা স্থপতিদের নিয়ে একটি জুরি কমিটি গঠন করা হবে। এ জুরি কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে সাতজন। তাঁরা ‘গণগ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘর কমপ্লেক্স’ প্রকল্পের জন্য সেরা নকঁশা নির্বাচন করবে। এ সাত সদস্যের জুরি কমিটির চারজন নির্বাচন করবে আইইবি এবং তিনজন নির্বাচন করবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জুরি কমিটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের নকঁশার মধ্য থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় তিনটি পুরস্কার জন্য তিনটি নকঁশা চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করবে। অন্যান্য নকঁশার মধ্য থেকে তিনটি বিশেষ পুরস্কারের জন্য আরও তিনটি নকঁশা নির্বাচন করবে।

এ প্রতিযোগিতায় ১ম পুরস্কার হিসেবে থাকবে দশ লক্ষ টাকা ও একটি সার্টিফিকেট, ২য় পুরস্কার হিসেবে থাকবে সাত লক্ষ টাকা ও একটি সার্টিফিকেট ও ৩য় পুরস্কার হিসেবে থাকবে পাঁচ লক্ষ টাকা ও একটি সার্টিফিকেট। বাকী তিনটি বিশেষ পুরস্কারের প্রত্যেকটির জন্য থাকবে এক লক্ষ টাকা ও একটি সার্টিফিকেট।

যে স্থাপতি তাঁর নকঁশার জন্য ১ম পুরস্কার পাবেন জুরি কমিটি উল্লিখিত কমপ্লেক্সের জন্য তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতা সন্তোষজনক বিবেচনা করলে মন্ত্রণালয় এ কমপ্লেক্সের জন্য তাঁর নকঁশাকে গ্রহণ করবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে নিয়োগ দিবে।

এ কমপ্লেক্সের জন্য উপযুক্ত নান্দনিকশৈলীর একটি নকঁশা পাওয়ার পাশাপাশি যারা স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের মধ্যে এ কাজে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করাও এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। এ প্রতিযোগিতা সম্পন্নের ক্ষেত্রে সমুদয় খরচ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বহন করবে।


Share with :
Facebook Facebook